সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে এবং ঢাকা সহ সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এক দিনে ৮৮টি মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়টি মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে এত অভিযান পরিচালনার পরও এলাকায় মাদকের প্রভাব কমছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সমাজকর্মীদের সহযোগিতায় নিউজবিডি২৪-এর অনুসন্ধানী দল মাঠে নামে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইলিয়াস মিয়া ও ইসহাকের একটি চক্রের নাম উঠে আসে।
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত ফারদৌসের ছত্রছায়ায় এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ইলিয়াস মিয়া এলাকার তরুণদের মাদকের দিকে আকৃষ্ট করার কাজে জড়িত, আর ইসহাক মূলত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি দেখভাল করেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে চক্রটির সঙ্গে একদল সশস্ত্র সহযোগীও রয়েছে।
অনুসন্ধানী দলের দাবি, ফারদৌসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই চক্রের বিরোধিতা করায় নাগরিক ঐক্যের সমর্থক ও সমাজসেবক মো. বাহার উল্লাহ হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির কারণে তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। অনুসন্ধানী দল এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, বাহার উল্লাহ ও তাঁর পরিবারকে ফারদৌস, ইসহাক ও ইলিয়াসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তাঁর ছেলেকে অপহরণের ঘটনাও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে বাহার উল্লাহর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি বলে অনুসন্ধানী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই বিষয়ে বক্তব্য জানতে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হয়নি অনুসন্ধানী দল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অভিযানে ছোট পর্যায়ের কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মাদক ব্যবসার পেছনে থাকা প্রভাবশালীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ আইনের আওতার বাইরে থাকলে মাদক নির্মূলের উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকেরা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নোয়াখালীতে মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে কথিত রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালী প্রতিনিধি | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

